চট্টগ্রামে এবারের বন্যায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৯ হাজার ২০৮টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১৬৯টি সেতু-কালভার্ট ও প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আজ শনিবারও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আজ ও আগামীকাল রোববার হালকা থেকে মাঝারি এবং ২০ থেকে ২২ জুলাই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া সবাই বাড়ি ফিরে গেছে। তাদের সহায়তায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ কৃষি মৎস্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতর, আবহাওয়া বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন দফতর বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ছুটিবিহীন অবস্থায় সার্বক্ষণিক কাজ করে চলেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৭ জুলাই তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর এবং চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ- এই ছয়টি উপজেলা অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৯২০৮, পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৬০২০, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০৫, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪৯২ কিলোমিটার ও ক্ষতিগ্রস্ত সেতু/কালভার্ট ১৬৯টি এবং মারা গেছেন ১৬ জন।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ২৪৫টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সবাই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছেন। তবে বাড়ি ফিরে যাওয়াদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের ভিটেমাটির করুণ দশা।
এদিকে, চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৯৫ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য নগদ ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ডেউটিন এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি ৩০ লাখ টাকা ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



