টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচির দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে প্রায় ৯০ জন অক্ষত অবস্থায় উপজেলা সদরে ফিরেছেন। থানচি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের স্থানীয় গাইড ও রিসোর্ট মালিকদের সহায়তায় তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বাসসকে বলেন, টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচি উপজেলার নাফাখুম, তিন্দু ও রেমাক্রীতে শতাধিক পর্যটক আটকে পড়ে। তাদের মধ্যে থেকে ৯০ জন পর্যটককে নিরাপদে থানচি উপজেলা সদরে ফিরিয়ে আনা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নৌকাযোগে তারা নিরাপদে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, গত ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তারা ওইসব এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আটকে পড়েন। পরে রাতে পাড়াগুলোতে তারা অবস্থান করেন। গতকাল বিকেল থেকে থানচিতে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং নদীর পানি একটু কমে যাওয়ায় তাদের আজ নৌকায় করে নিয়ে আসা হয়। তারা সবাই বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
তিনি জানান, আমিয়াখুম এলাকায় আটকে থাকা ১৮ জন পর্যটককে গাইডদের সহায়তায় পায়ে হেঁটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তারাও থানচি উপজেলা সদরের দিকে রওনা হয়েছেন। কোনো পর্যটক আটকে পড়লে সাথে সাথে প্রশাসনকে জানানোর জন্য পর্যটক গাইড এবং রিসোর্ট মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যাপারেও রিসোর্ট মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে জেলার সব ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে থানচি সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের সাথে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে স্থানীয় মানুষ।
থানচির ট্যুারিস্ট গাইড মামুনর রশিদ বলেন, থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে একটি গাইড প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার লাইফ জ্যাকেট ও ট্রলার নিয়ে গিয়ে রেমাক্রি ও থানচিতে আটকে পড়া সব পর্যটককে থানচি সদরে নিয়ে আসে।
থানচির শীলগিরি রিসোর্টের মালিক মং নু মার্মা জানান, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আটকে পড়া পর্যটকদের অর্থাভাব দেখা দেয়। যার কারণে স্থানীয় কটেজ মালিকরা থাকার ভাড়া নেয়নি। সেইসাথে খাবারের বিলও অর্ধেক রাখা হয়েছে।
সূত্র : বাসস



