৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে মিরসরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

‘আমি চাই, খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গ ১০১ শয্যার কার্যক্রমে আনা হোক। একইসাথে ভবিষ্যতে এটিকে ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন। সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করার কয়েক মাসের মধ্যেই এ অনুমোদন আসায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে মিরসরাই এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় পরিণত হয়েছে। এখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠায় প্রতিদিনই জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়ছে। অথচ প্রায় ১২-১৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা একমাত্র ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।’

সংসদে দেয়া বক্তব্যে নুরুল আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মিরসরাইবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের সমর্থনের কারণেই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার মানুষের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালটিতে শয্যাসংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিদিন রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে দেশের বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন পায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সরকার সারাদেশের ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সেখানে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটিও রয়েছে। এর আগে মিরসরাইয়ের সাংসদ নুরুল আমিন ৫০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নতি করার দাবি জানিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা এসে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে ভবনের সম্প্রসারণ, চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে উপজেলার লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবা আরো সহজলভ্য হবে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, মিরসরাইয়ের জনসংখ্যা, শিল্পায়ন ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো সময়ের দাবি ছিল। ১০১ শয্যায় উন্নীত হওয়ার অনুমোদন সেই দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এছাড়া মিরসরাইয়ের সাংসদ নুরুল আমিন, যিনি মিরসরাইয়ের মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর দিকেও নজর দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে প্রত্যেক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেগুলোর প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে চারটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দু’টি মাদরাসা মেরামত ও সংস্কার কাজের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পেয়েছেন। এছাড়া জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্পের আওতায় কৃষি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সর্বোপরি মিরসরাইয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়নে পুরো উপজেলার চিত্র পাল্টে যাবে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ‘মিরসরাইবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমি চাই, খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গ ১০১ শয্যার কার্যক্রমে আনা হোক। একইসাথে ভবিষ্যতে এটিকে ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’