শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে একটি বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পৌর প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আওতাধীন বিভিন্ন বাজার, জনসমাগমস্থল, সড়ক, ফুটপাত, চলাচলের পথ এবং অন্যান্য সরকারি ও পৌরসভার জায়গায় অবৈধভাবে কোনো ধরনের অস্থায়ী বা স্থায়ী দোকান, স্টল, ভ্যান, হকারের সামগ্রী কিংবা অন্য কোনো স্থাপনা স্থাপন করা যাবে না।’
এতে আরো বলা হয়, পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষার্থে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্য বা নির্মাণসামগ্রী ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব ধরনের বর্জ্য নির্ধারিত স্থান বা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে এবং পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য শ্রীমঙ্গল গড়ে তুলতে পৌরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এছাড়া গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে দোকান বা স্থাপনা নির্মাণ, জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অনেকেই মনে করছেন, শুধু গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের অভিযোগ, অতীতেও এ ধরনের ঘোষণা দেয়া হলেও বাস্তবে অবৈধ দখল, ফুটপাত দখল কিংবা অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি।
তারা আরো বলেন, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব নেয়ার পর প্রস্তাবিত পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই একাধিক বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, দখলমুক্ত ফুটপাত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নির্মাণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।



