রাস্তা না থাকায় পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস, দগ্ধ বাবা-ছেলে

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকাটিতে এখনো জরুরি সেবা পৌঁছানোর উপযোগী একটি প্রশস্ত সড়ক নির্মিত হয়নি।

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Chandpur
আগুনে দগ্ধ বাবা-ছেলে
আগুনে দগ্ধ বাবা-ছেলে |নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গভীর রাতে আগুনে পুড়ে গেছে একটি বসতঘর। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন বাবা-ছেলে। চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাটিলা মজুমদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রুবেল (৩০) ও তার ছেলে মিহির (১০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রুবেলের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ঘরের সকল আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। একইসাথে পাশ্ববর্তী একটি বিল্ডিংয়ের এক পাশের দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

রুবেলের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পাশের ঘর থেকে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে এসে দেখি ঘরটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আমরা চেষ্টা করেছি আগুন নেভানোর, কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু পুড়ে যায়।’

আগুনে দগ্ধ হন রুবেল ও তার ছেলে মিহির। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ হাদি বলেন, ‘রাত তখন শেষের দিকে। আহতরা কোনো যানবাহন না পাওয়ায় আমরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করি। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।’

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।’

তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে পশ্চিম হাটিলা গ্রামের সড়ক সঙ্কট। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকাটিতে এখনো জরুরি সেবা পৌঁছানোর উপযোগী একটি প্রশস্ত সড়ক নির্মিত হয়নি। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস রওনা দিলেও সংকীর্ণ রাস্তার কারণে তাদের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে স্থানীয় গ্রামবাসী নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ততক্ষণে আগুনে সবকিছু পুড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, একটি উপযুক্ত সড়কের অভাবে বছরের পর বছর ধরে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অন্য সেবাদানকারী যানবাহন এলাকায় প্রবেশ করতে না পারায় সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় তাদের।

এদিকে, এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতি দ্রুত পশ্চিম হাটিলা এলাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও একটি টেকসই সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।