রংপুরে চাঞ্চল্যকর ৪ খুন

স্বীকারোক্তি দেয়া সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য ইউরিন নিল তদন্ত টিম : চুল ও রক্তের স্যাম্পল

ঘটনার দশ দিনের মাথায় অবশেষে রংপুরে চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য ইউরিন সংগ্রহ করেছে তদন্ত দল। তবে রক্ত এবং চুলের নমুনা নেয়া হয়নি।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
স্বীকারোক্তি দেয়া সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য ইউরিন নিল তদন্ত টিম
স্বীকারোক্তি দেয়া সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য ইউরিন নিল তদন্ত টিম |নয়া দিগন্ত

ঘটনার দশ দিনের মাথায় অবশেষে রংপুরে চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য ইউরিন সংগ্রহ করেছে তদন্ত দল। তবে রক্ত এবং চুলের নমুনা নেয়া হয়নি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের টেকনোলজিস্টরা রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তাদের ইউরিন সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে ঘটনার ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট সংক্রান্ত বিষয়ের কিছুটা উন্নতি হলো।

মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। সে কারণে কারাগার থেকে আসামিদের বাইরে আনলে ক্রাইসিস তৈরি হতে পারে। তাই কারাগারের ভেতর থেকেই তাদের ইউরিন সংগ্রহ করা হয়েছে।

সনাতন চক্রবর্তী আরো জানান, চুল এবং রক্তের নমুনা নেয়ার মতো প্রযুক্তি রংপুর মেডিক্যাল কলেজের নেই। তবে প্রয়োজন হলে আমরা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এসে চুল এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করবো। এরপর প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে তা ঢাকায় ডোপ টেস্টের জন্য পাঠানো হবে।

গেল ২২ আগস্ট ভোররাতে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরে যাওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পুত্র আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় গণপতি চক্রবর্তীর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ২৩ আগস্ট ভোররাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওইদিনই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ ১৬৪ ধারায় খুনের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর আরেক প্রতিবেশী সীমান্ত দাস এবং দুখিগঞ্জ শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ দাস মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আসামিদের ডিএনএ, ডোপ টেস্ট এবং জব্দকৃত ৩৫টি আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে পুলিশ।

এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রতিদিনই আন্দোলন হচ্ছে রংপুরে। এরই মধ্যে আইনজীবী সমিতি আসামিদের পক্ষে না লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।