চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দলকা বিলে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ মাছের মড়ক। গত কয়েক দিনে বিলের পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩৫০ মণ মাছ মারা গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
পানির ওপর ভেসে উঠছে একের পর এক মরা মাছ। এ ঘটনায় মৎস্যচাষি ও বিলপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলের পানির স্বাভাবিক পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। পানি দূষণ এবং পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়াই মাছের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। পাশাপাশি আশপাশের জমির কৃষি রাসায়নিক, পাট জাগ দেওয়া এবং সাম্প্রতিক অতিরিক্ত গরমের প্রভাবও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
তবে এসবের কোনটি বা একাধিক কারণ মিলেই মাছের মৃত্যু ঘটছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন বিলের পানির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং মৃত মাছের নমুনা বিশ্লেষণ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দলকা বিল শুধু মাছের উৎস নয়, এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মাছের এমন ব্যাপক মৃত্যু শুধু মৎস্যচাষিদের আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি বিলের পানি ও পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্যও একটি সতর্কসংকেত।
একদিকে পানিতে ভেসে উঠছে শত শত মণ মরা মাছ, অন্যদিকে প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা। ফলে বিলপাড়ের মানুষের মনে বাড়ছে আতঙ্ক—এই মৃত্যু কি এখানেই থামবে, নাকি আরো বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
স্থানীয়রা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পানি ও মৃত মাছের নমুনা পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে পানি দূষণের উৎস শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং দলকা বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দলকা বিলের পানিতে এখন শুধু মরা মাছ ভাসছে না, ভেসে উঠছে অর্ধকোটি টাকার কাছাকাছি ক্ষতির আশঙ্কা, জীববৈচিত্র্য নিয়ে শঙ্কা এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি—কী ঘটছে দলকা বিলের পানিতে?



