বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামী এক অপ্রতিরোধ্য সম্ভাবনাময় শক্তির নাম।’
তিনি বলেন, ‘এই দলের ওপর চুড়ান্ত আঘাত হিসেবে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট যারা জামায়াত ও শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে।’
শনিবার (১৩ জুন) টাঙ্গাইলের সাবেক ছাত্র জনশক্তিদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা হাজারো জুলুম নির্যাতনের মধ্যে থেকেও কখনো দেশ ছাড়িনি। কিন্তু তারা দেশেও থাকতে পারে নাই। পদত্যাগ করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতায় আছে, তারাও একই লাইন ধরার চিন্তা করতেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দেখেছি। জামায়াত-শিবিরের সাথে যারা বাদরামি করেছে, আখেরাতে কী হবে সেটা আল্লাহ সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু দুনিয়ায় তারা ভালো পরিণতি লাভ করতে পারে নাই। দুনিয়া থেকে তাদের নির্মমভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। এটাই হলো ইতিহাস। আর ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই সংগঠনের আমির থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় ১১ জন লোককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। কাউকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আবার কাউকে জেলখানায় নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই আন্দোলনের অনেক নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে। তবুও আল্লাহর রহমতে এই সংগঠন টিকে আছে।’
জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলার আমির আহছান হাবিব মাসুদ।
জেলা জামায়াত আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, ঢাকা হাতিরঝিল থানা শাখার সেক্রেটারি ও টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন, শিবিরের জেলা সভাপতি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মো: হুমায়ুন কবীর।



