দোয়ারাবাজারে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান

প্রায় তিন একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিমুলতলা পঞ্চায়েতী কবরস্থানের কিছু অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাশিয়ামারা নদীতে মিশে গেছে।

Location :

Sunamganj
নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান
নদী ভাঙনে বিলীনের পথে কবরস্থান |নয়া দিগন্ত

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামার (উপশাখা) নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে সুরমা ইউনিয়নর শিমুলতলা গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থান। ফলে আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিমুলতলা পঞ্চায়েতী কবরস্থানের কিছু অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাশিয়ামারা নদীতে মিশে গেছে। বেশ কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কবরের হাড়গোড় তুলে নিয়ে অন্যত্র কবর দিয়েছেন স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শত বছরে এই কবরস্থানে কয়েকটি প্রজন্মের স্বজনরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এই এলাকার মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে কবরস্থানকে ঘিরে। সুযোগ পেলেই গ্রামের মানুষ কবরস্থানে গিয়ে তাদের বাপ-দাদাসহ স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দোয়া করেন। কিন্তু নদী ভাঙনের এই কবল থেকে মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের শেষ স্মৃতি রক্ষায় আতষ্কে পড়েছে স্থানীয়রা।

এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু কবরস্থান নয় পুরো গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন জানান, বহুবছর আগে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই গোরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নদী ভাঙনের তীব্রতা দিনদিন বাড়ায় গ্ৰামের অনেক পরিবার তার স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে, হাড়গোড় ও কঙ্কাল খুঁড়ে নিয়ে অন্যত্র কবরস্থ করছেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি কবর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরিভাবে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা না হলে, আমাদের পূর্ব-পুরুষের স্মৃতি সম্বলিত কবরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

শিমুলতলা গ্রামের মইনূল হক বলেন, ‘চোখের সামনে শতশত কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’

সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন আর-রশীদ বলেন, ‘কবরস্থান হলো মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা এবং অনন্তকালের যাত্রার প্রথম ধাপ। এ কবরস্থান নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শুনে অনেক ব্যতিত হয়েছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি জানা নেই। একবার পরিদর্শন করে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।