ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গু, মসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু

সিটি প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, নগরীর ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একইসাথে অন্যান্য ওয়ার্ডেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
নয়া দিগন্ত

বর্ষা পুরোপুরি শুরু থে‌কেই ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নগরীর একাধিক এলাকায় প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। ডেঙ্গুতে চলতি বছর ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালেও বাড়ছে চাপ। এ পরিস্থিতিতে মশক নিধনে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক)।

ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৭ জন পুরুষ, ২৫ জন নারী ও ১১ জন শিশু। জানুয়ারিতে ২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ জন, মার্চে ১১ জন, এপ্রিলে নয়জন, মে মাসে ২০ জন এবং জুনে সর্বোচ্চ ৫৩ জন রোগী ভর্তি হন। ফেব্রুয়ারিতে একজন ও জুনে চারজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার গাজিরপাড়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী চমক ফুল। গত ২৭ জুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন ডা. মোস্তফা ফয়সাল বলেন, সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। আপাতত বিভিন্ন মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা আরো বাড়লে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।

২০২৫ সালের ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি ময়মনসিংহবাসী। সে বছর দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শয্যা সঙ্কটে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হয়েছিল। তাই এবার শুরু থেকেই কার্যকর প্রস্তুতির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মশক নিধনে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাউন্ডারি রোড এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনুজ্জামান সরকার রোকন। এ সময় সিইও সুমনা আল মজিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি ফগার ও একটি স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

সিটি প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, নগরীর ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একইসাথে অন্যান্য ওয়ার্ডেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি নগরবাসীকে বাসাবাড়ির ছাদ, টব, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখতে আহবান জানান।

তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্রের কথা বলছেন নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং হলেও সন্ধ্যা নামলেই মশার উপদ্রব অসহনীয় হয়ে ওঠে। অনেক এলাকায় ড্রেনে আবর্জনা, জলাবদ্ধতা এবং পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার নিরাপদ প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমানে নগরীর নওমহল, বাউন্ডারি রোড, নাহা রোড, মাদ্রাসা কোয়ার্টার, নন্দীবাড়ি ও আকুয়া হাজীবাড়িসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফগিং নয়, নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস, ড্রেন পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।