জমি নিয়ে বিরোধে ফিলিং স্টেশনের মাঝে কাঁটাতারের বেড়া, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় একটি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় স্টেশনের একটি অংশজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda
জমি নিয়ে বিরোধে ফিলিং স্টেশনের মাঝে কাঁটাতারের বেড়া, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
জমি নিয়ে বিরোধে ফিলিং স্টেশনের মাঝে কাঁটাতারের বেড়া, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় একটি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় স্টেশনের একটি অংশজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এতে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা ট্রাক, বাসসহ বড় যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার সকালে স্টেশনের ভেতর দিয়ে সিমেন্টের খুঁটি বসিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে শান্ত পরিবেশ থাকলেও বিরোধকে ঘিরে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

জানা গেছে, দামুড়হুদা সদরের দশমীপাড়ার বাসিন্দা শাজাহান আলীর নামে থাকা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশন পরিচালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ওই জমির ৯ শতক তার ছোট ভাই সেলিম হোসেনের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। পরে সেলিম হোসেন সেই জমি আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল আলম মিল্টন এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রুস্তম আলীর কাছে বিক্রি করেন।

তবে শাজাহান আলীর দাবি, ৯ শতক জমির দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি আদালতে একাধিক মামলা করেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।

শাজাহান আলী বলেন, আদালতে তিনটি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক পাম্প এলাকায় প্রবেশ করে তাকে মারধর করে বের করে দেয় এবং পরে সিমেন্টের খুঁটি বসিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেয়। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, সরকার থেকে নিলামের মাধ্যমে তিনি মোট ১৮ শতক জমি কিনেছিলেন। এর মধ্যে ৯ শতক ছোট ভাই জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নিয়েছেন। আদালতের রায় যেদিকে যাবে, তিনি তা মেনে নেবেন। তবে মামলা নিষ্পত্তির আগে জোরপূর্বক দখল নেওয়া বেআইনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক শরিফুল আলম মিল্টন বলেন, তারা বৈধভাবে সেলিম হোসেনের কাছ থেকে ৯ শতক জমি কিনেছেন। জমির দখলও বুঝে নিয়েছেন। তার দাবি, ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকের একটি অংশ তাদের কেনা জমির মধ্যে পড়েছে। শাজাহান আলীর সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তিনি চাইলে জমিটি কিনে নিতে অথবা ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

সেলিম হোসেন বলেন, বড় ভাই স্বেচ্ছায় তার নামে ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন। পরে তিনি নিয়ম মেনেই সেই জমি বিক্রি করেছেন এবং বাবার উপস্থিতিতে ক্রেতাদের কাছে দখলও বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার কারণে বড় যানবাহনের প্রবেশ ও বের হতে সমস্যা হচ্ছে। এতে ফিলিং স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে বিরোধের স্থায়ী সমাধান চান।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’