এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল বান্দরবানের জামছড়ি এলাকার এক গরিব জুম চাষির মেয়ে ওয়াং ওয়াং শৈ মারমা। টাকার অভাবে ফরম ফিলাপ করতে পারেনি। দেওয়া হয়নি পরীক্ষাও। অন্যদিকে প্রত্যন্ত খামাদং পাড়ার মা বাবা হারা অনাথ শিশু মাইউমে মারমা আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়ালেখাও বন্ধ হওয়ার পথে।
এরকম অসহায় আট শিক্ষার্থী, যাদের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তাদের শিক্ষাজীবনে অন্ধকার নেমে আসে। এসব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে এগিয়ে এলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস। দেয়া হলো সহায়তা।
সাথে সহযোগিতায় এগিয়ে এলো সমাজসেবা অধিদফতর, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ও গ্রাউস।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের দেয়া হলো নগদ ১০ হাজার টাকা। সেইসাথে শিক্ষাজীবন চালিয়ে নিতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস।
সোমবার (২৯ জুন) বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে এসব শিক্ষাদের সহায়তা দেয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদফতর, এনজিও সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ও গ্রাউসের কর্মকর্তারা।
সহায়তা পাওয়ার পর শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেয়ার আশার আলো দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে ওয়াং ওয়াং শৈ মারমা। সে জানায়, ‘আমার মনে হয়েছিল আমার পড়ালেখা এখানেই শেষ। আমার গরিব জুম চাষি বাবার পক্ষে আমার পড়ালেখা চালিয়ে নেয়া সম্ভবই ছিল না। আমি গ্রামে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ এই সহায়তায় আমি এখন ভরসা পাচ্ছি। আগামীর পরীক্ষায় আমি অংশগ্রহণ করব।’
ওয়াং শৈ’র মতো অপর সাত অসহায় শিক্ষার্থী রবিন কুমার তঞ্চঙ্গা, ওহ্লাওয়াং মারমা, মাইউমে মারমা, শহিদুল ইসলাম, বিমূর্ত তঞ্চঙ্গা, মিরাজ মিয়া, ইখ্যাংচিং মারমা তাদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেয়ার সহায়তা পেয়ে খুবই খুশি।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমাজের এসব পিছিয়েপড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।



