বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার দিনব্যাপী মজলিসে শূরা অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মসিউল আলম বলেন, ‘সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করা হবে।’
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: আফজাল হোসাইনের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী শূরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মসিউল আলম বলেন, ‘আমাদেরকে পরামর্শ, আত্মসমালোচনা, দায়িত্ববোধ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা করতে হবে।’
তিনি মুমিনদেরকে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান।
আমাদেরকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা করে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে সক্রিয়, সুশৃঙ্খল ও জনমুখী করতে হবে। প্রতিটি দায়িত্বশীলকে নিজের দায়িত্বের ব্যাপারে জবাবদিহিতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, পদ-পদবি বা মর্যাদার চেয়ে সংগঠনের দায়িত্ব ও দ্বীনের কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। রাজনীতি শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়ার বিষয় নয়। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়ে কাজ করা—এসবকে আমাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ করতে হবে।
শূরা অধিবেশনে জেলার নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রউফ ও অধ্যক্ষ মো: শাহীনুর ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি এ বি এম কামাল হোসাইন ও মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, রাজনৈতিক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টারসহ (পুরুষ ও মহিলা) জেলার শূরা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শূরা অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে দারসুল কোরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা জেলার তদারককারী মাওলানা আব্দুল মান্নান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে আমাদের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। সততা, আমানতদারি, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে মানুষের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। মতামতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার পরিবেশ আরো শক্তিশালী করতে হবে। তরুণ সমাজকে এগিয়ে আনতে হবে—দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের তরুণ সমাজ। তাদের নৈতিকতা, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।



