বোদা (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর অধীনে আবেদন জমা দিতে গিয়ে আবেদন গ্রহণে অস্বীকৃতি ও আইনের ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর আবেদন জমা দিতে গিয়ে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে (৩ সেপ্টেম্বর) সেই আবেদনের রিসিভ কপি নিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
দৈনিক সংগ্রামের বোদা উপজেলা সংবাদদাতা ও বোদা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ওই কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে লিখিত আবেদন জমা দিতে গেলে অফিসের হিসাব রক্ষক-কাম-ক্রেডিট সুপারভাইজার মো. আখতারুল আজাদ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। পরে আবেদনের রিসিভ কপি নিতে গেলে আখতারুল তাকে বলেন, ‘আমি তো জমা নিতে চাইনি। আপনি টেবিলে রেখে গেছেন।’
আইনের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমাকে আখতারুল আজাদ বলেছেন তথ্য নিতে গেলে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দফতরে আবেদন জমা দিতে হবে এবং আগে ব্যাংকে তথ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) করুণা কান্ত রায় নাকি আখতারুল আজাদকে বলেছেন আমার আবেদনটি ইউএনও-র দফতরে জমা দিতে।’
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি এই ঘটনাকে কেবল একজন নাগরিকের হয়রানি হিসেবে নয়; বরং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর পরিপন্থী সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছি। তথ্য অধিকার আইন একটি গণতান্ত্রিক যন্ত্র, যা জনগণকে প্রশাসনের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের ক্ষমতা দেয়। কিন্তু এখানে আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে আমাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শোচনীয়।’
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অ. দা.) করুণা কান্ত রায়কে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওই দফতরের তথ্যের জন্য আমার দফতরে তিনি (মো. আখতারুল আজাদ) আবেদন জমা দিতে কেন বলবেন? সেটাতো আমার দফতর নয়। যে দফতরের তথ্য লাগবে, সেই দফতরেই তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে হবে।’



