সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

গম আমদানি করতে হয় : চালে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ

‘এখনো দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০-৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। চালে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেকগুলো কৃষি পণ্য যেগুলোর জন্য আগে বাইরের দেশের প্রতি নির্ভরশীল ছিলাম, সেগুলোতে ইতোমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে।’

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet Sadar
সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী |নয়া দিগন্ত

বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘এখনো দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০-৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। চালে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেকগুলো কৃষি পণ্য যেগুলোর জন্য আগে বাইরের দেশের প্রতি নির্ভরশীল ছিলাম, সেগুলোতে ইতোমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে।’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরের কাজিরবাজার তোপখানা এলাকায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে দলের কার্যালয় উদ্বোধন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানি বেশি, রফতানি কম; এটা তো সাধারণ একটা কথা। বাংলাদেশে প্রচুর কাঁচামাল উৎপন্ন হয় না। সুতরাং শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের বেশিরভাগ কাঁচামালের জন্য বাইরের পৃথিবীর ওপর নির্ভর করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এটি কোনো অভিনব বিষয় নয়। পৃথিবীর বহু দেশে আমদানি বেশি, রফতানি কম। কিছু দেশে রফতানি বেশি, আমদানি কম। আমদানি কমে যাবে, রফতানি বেশি হয়ে যাবে তুলনামূলকভাবে—এটি খুব সহজসাধ্য বিষয় নয়। তবে ট্রেড ভলিউম বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিনিয়োগ আনার মাধ্যমে রফতানির নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করে সেখানে রফতানি প্রসার ঘটানো দরকার। এগুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার, এ কাজের ফলাফল ও সুফল ইনশাআল্লাহ দেখবেন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির যে সমস্ত খাত দেশজ উৎপাদনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার প্রতিটিকে জোরদার করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে, মানুষের প্রত্যাশার হক আদায় করার জন্য যা যা করার দরকার, তা করছে সরকার।’

কার্যালয় উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়ায় কোনো সমন্বয়হীনতা কাজ করবে না বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি সমন্বয়হীনতা তো তৈরি করবেই না, বরং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানটাকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জায়গায় দেখার, যাচাই করার এবং দলীয় শক্তির বিন্যাসের জন্য নতুন উদ্যম সংযোজন করবে।’

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব, আর সিলেট ও সুনামগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের এমপি ও হুইপ জি কে গউছকে। আর মৌলভীবাজারের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

অনেকেই জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ব বণ্টনকে ভিন্ন নামে উচ্চ আদালত থেকে অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘জেলা মন্ত্রী’র ফিরে আসা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এতে সমন্বয়হীনতার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আর এই উদ্যোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন জামায়াত দলীয় ১১ জন এমপি।

তবে এই উদ্যোগে সমন্বয়হীনতার শঙ্কা নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘যে যেখানে কাজ করবেন তারাই দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দল একটা পরিকল্পনা ও কৌশল সামনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সামনে উদযাপনের সময় নেই। সামনে এখন দেশ গঠনের চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে সরকারের লক্ষ্য—মানুষের প্রত্যাশা মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, যে সমস্ত লজিস্টিক সমস্যা আছে (জ্বালানি স্বল্পতাসহ বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা) দূর করে বিপুলভাবে দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে অর্থনীতির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা।’

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তবে ফ্যাসিবাদী আমলে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা, বর্তমানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এই অনুষ্ঠানের কোনো দাওয়াত পাইনি।’