চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মৃণাল কান্তি ঘোষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছানোয় এবার তার অপসারণ দাবি করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কার্পাসডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসে মৃণাল কান্তি ঘোষ যোগদানের পর থেকেই তিনি নিজের ইচ্ছামতো অফিস পরিচালনা করছেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা যেকোনো সমস্যায় অফিসের অভিযোগ নম্বরে কিংবা এজিএমের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তারা রিসিভ করেন না। উল্টো কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সাথে অশোভন ও রুক্ষ আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এজিএম মৃণাল কান্তি ঘোষের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের ফোন রিসিভ করা এজিএমের জন্য বাধ্যতামূলক। আমরা ইতোমধ্যে সেবার মান বাড়াতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি এ বিষয়ে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। এরপরও যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আসে, তবে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দিনরাত গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেয়া।’
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—এইসব অনিয়মের বিরুদ্ধে যেন একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিতর্কিত এজিএমের অপসারণ নিশ্চিত করতে তারা মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



