গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদক ও চুরি মামলায় গ্রেফতার রিয়াজ ফকির নামে এক আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও ছয় পুলিশকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে ছয় হামলাকারীও আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। থানায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক।
এর আগে, দুপুরে এলাকায় রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিকেলে শতাধিক নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে এসে থানায় হামলা করে। এ সময় তারা থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত এএসআই আবদুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ (৪৭) অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
আগৈলঝাড়া থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে মাদক ও চুরির মামলায় পুলিশ আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরসহ একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। চুরির মামলায় গ্রেফতার আসামি রিয়াজ ফকির নিজেই থানার হাজতের লোহার সাথে তার মাথা আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেমেক) হাসপাতালে পাঠায়।
বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে রিয়াজের স্বজন ও একদল উচ্ছৃঙ্খল নারী-পুরুষ আগৈলঝাড়া থানায় ঢুকে হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আসবাবপত্রসহ থানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাদের বাধা দিলে তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়।
রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম বলেন, আমার ছেলেকে কোনো অপরাধ ছাড়াই পুলিশ আটক করে মারধর করেছে। সে এখন গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানা হাজতে থাকাকালে সে নিজেই মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে শতাধিক লোক থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



