ময়মনসিংহে ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধার

টাকার লোভে কাস্টমস কর্মীকে হত্যা, কেয়ারটেকারসহ গ্রেফতার ২

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাকিবের বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, লোহার রড, তিনটি ছুরি, কাঠের খাটিয়া ও রক্তমাখা পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Fulbaria
হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার দুই আসামি
হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার দুই আসামি |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজের নয় দিন পর কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, টাকার লোভে নিজ বাড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ টুকরো করে চারটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাকিবের বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, লোহার রড, তিনটি ছুরি, কাঠের খাটিয়া ও রক্তমাখা পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম হাসান ইস্রাফীল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব রায়হান তালুকদার ঢাকার কমলাপুর কাস্টমস শাখার নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকলেও প্রতি বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ীয়ার সোয়াইতপুর গ্রামের বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার ভোরে কর্মস্থলে ফিরে যেতেন।

গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন। ওই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সাথে তার শেষ কথা হয়। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নূরুল ইসলাম।

জিডির পরপরই বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুল আত্মগোপনে চলে যান। শুরু থেকেই পরিবারের সদস্যদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন রাজু। পরে পুলিশি অনুসন্ধানে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

এরপর গত ২ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে রাকিবের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে চারটি ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগগুলো খুললে রাকিবের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, লাশটি ১৫ টুকরো করা হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর লাশ টুকরো করতে কাঠের তৈরি মাংস কাটার খাটিয়া, স্থানীয় ভাষায় ‘খাইট্টা’, ব্যবহার করা হয়। পরে লাশের খণ্ডগুলো ব্যাগ ও বিছানার চাদরে মুড়িয়ে পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও রাকিবের বাড়িতে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

এএসপি এস এম হাসান ইস্রাফীল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকার লোভেই রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি কক্সবাজার এলাকাতেও তারা অবস্থান করেছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, অর্থের লেনদেন এবং এতে আর কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিহত রাকিব রায়হান তালুকদার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তার মা রাহেলা খাতুন। তিনি বিবাহিত ছিলেন। কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সাথে তার বিচ্ছেদ হয়।

কাস্টমস কর্মীকে নিজ বাড়িতে হত্যার পর লাশ ১৫ টুকরো করে পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।