নাটোরে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে সালমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক আহম্মদ আলী কালুকে নাকে-মুখে আঘাত করে, পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

নাটোর প্রতিনিধি

Location :

Natore
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে নেয়া হচ্ছে
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে নেয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মোমিনপুর গ্রামে স্বামী কালুকে হত্যার দায়ে স্ত্রী সালমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক আহম্মদ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশের আদেশও দেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে নাটোর অতিরিক্ত দায়রা ও জজ আদালত-৩-এর বিচারক মো: সাইফুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সালমা বেগম (৩৫) নলডাঙ্গা উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের নিহত কালুর স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক আহম্মদ আলী (৪২) একই এলাকার মরহুম সোহরাব হোসেন তুলার ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২২-২৩ বছর আগে কালু ও সালমা বেগমের বিবাহ হয়। তারপর থেকে তারা সংসার করে আসছিলেন। একপর্যায়ে সালমা বেগমের সাথে প্রতিবেশী আহম্মদ আলীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে সালমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক আহম্মদ আলী কালুকে নাকে-মুখে আঘাত করে, পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পরের দিন নিহত কালুর মা ছেলের স্ত্রী সালমা বেগম ও আহম্মদ আলীকে আসামি করে নলডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।

নাটোর জজ কোর্টের সরকারী কৌশুলি অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন তালুকদার টগর জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আসামিদের দোষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এমন রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুোষ প্রকাশ করেছে।