রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনার স্বীকারোক্তি দেয়া আসামি সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে দুই দিনে তিন ঘণ্টা করে মোট ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করেছে তদন্ত সংস্থা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জিন্নাত আলীসহ দুজন ডিবি সদস্য রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রবেশ গেটের পাশে হাজতি-কয়েদি শাখার ইনচার্জ ডেপুটি জেলার একরামুল হকের রুমে তার উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার একই রুমে দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা।
জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ।
তিনি জানান, ‘আমরা আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের যে অনুমতি পেয়েছিলাম, আজকে তার শেষ দিন। আমরা আসামিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। প্রতিটা বিষয়কে আমরা দেখব। একটা মামলায় যতটুকু সীমা থাকে সব আমরা দেখব। তদন্তের সীমা অসীম। তদন্তের প্রয়োজনে যতটুকু গভীরে যাওয়া লাগে, আমরা ততটুকু গভীরেই যাব। এই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা এই মামলা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য যা যা করণীয়, সব করব।’
গত ২১ আগস্ট ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরে যাওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, কন্যা আগামী এবং পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী। ২২ আগস্ট রাত ১১টা থেকে পরের দিন ভোর পাঁচটা পর্যন্ত তাদের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট সিদ্ধার্থ এবং মুগ্ধকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই দিনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট সীমান্ত এবং বিদ্যুৎ নামে দুজন সাক্ষী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এদিকে ৯ দিনের মাথায় কারাগার থেকে ইউরিনের স্যাম্পল সংগ্রহ করায় ডোপ টেস্টে আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত কিনা তা খুঁজে বের করতে রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন-সংগ্রাম হচ্ছে।



