সাভারের উলাইল এলাকার আল-মুসলিম গ্রুপের ১৮৬৮ ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে কারখানার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লোকাল লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
পরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অনুরোধে আন্দোলনরতরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কারখানার মূল ফটকের সামনে শিল্প পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়।
ছাঁটাইকৃত শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আযহার আগে ২৬ মে কারখানা ছুটি হলে শ্রমিকরা বাড়ি চলে যায়। ঈদের পর আজ শনিবার সকালে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে আসলে কারখানা কর্তৃপক্ষ অনেকের আইডি কার্ড তাদের কাছে জমা রেখে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে কারখানায় ঢুকতে দেয়নি। পরে অব্যাহতিপ্রাপ্ত শ্রমিকরা সকাল ৮টার দিকে উলাইল এলাকায় কারখানার সামনে এসে অবস্থান নেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেনে অবস্থান নেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই লেনে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আমাদের ছাঁটাই করেছে। আমাদের অনেকেরই ন্যায্য পাওনাদি এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে হঠাৎ চাকরি হারিয়ে আমরা পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের হয় চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে, না হয় আইনানুযায়ী সমস্ত বকেয়া পাওনা এককালীন বুঝিয়ে দিতে হবে।
সুইয়িং অপারেটর আসমা বেগম বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর আল-মুসলিমে যোগদান করি। ঈদের ছুটি পর বাড়ি থেকে এসে দেখি আমার চাকরি নেই। আমি অসহায় বাবা-মা, ছেলে নিয়ে এখন কি করবো? আমার ওভারটাইম, টিফিন বিল, ছুটি এবং রিজাইনের টাকা পরিশোধের দাবি করছি। নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের টাকা দিয়ে ছাঁটাই করার কথা থাকলেও তারা আমাকে মাত্র এক মাসের টাকা দিয়েছে।’
বর্তমানে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি (অপারেশন) পুলিশ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অবরোধ সকালে করলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেছেন।’
আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো: আবু রায়হান দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ব্যবসায়িক মন্দা ও তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আল-মুসলিম গ্রুপের মোট শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের সংখ্যা ১৮৬৮ জন বেশি দেখা গেলেও মোট শ্রমিকের তুলনায় বেশি না। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের সব পাওনাদি আমরা পরিশোধ করেছি।’
উল্লেখ্য, আল-মুসলিম গ্রুপের ছাঁটাইকৃত ১৮৬৮ জন শ্রমিকের মধ্যে সাভার উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানা থেকে এক হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার প্যাসিফিক ব্লু-জিন্স ওয়্যার কারখানার ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ায় অবস্থিত আল-মুসলিম অ্যাপারেলস কারখানার ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।



