শেরপুর-১ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেছেন, ‘এই সরকার সবসময় নানা কথাবার্তা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তারা জামায়াত-শিবিরকে বলে ‘গুপ্ত’। অথচ তাদের দলেই ‘গুপ্ত’র ছড়াছড়ি।’
মঙ্গলবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় শেরপুর পৌর টাউন হলে সদর উপজেলা ও শহর জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফেজ মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘গোপালগঞ্জের একজন আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য বানিয়েছে তারা (বিএনপি সরকার)। পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রীর ৫ আগস্টের আগে ও নির্বাচনের আগে অবস্থান কোথায় ছিল, এটা কি আমরা ও দেশের জনগণ জানি না? এ ধরনের উদ্ভট কথা বলে জাতির দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তারা। সচেতন নাগরিকের এই দেশে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আর কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।’
শেরপুর শহর শাখার আমির মাওলানা নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আমির মাওলানা মো: হাফিজুর রহমান।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা মজলিশে শূরা সদস্য ডা: মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, সদর আমির মাওলানা আতাউর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা মো: নূরে আলম সিদ্দিকী, ডা: মো: হাছানুজ্জামান হাছান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: আব্দুস সোবহান।
প্রধান অতিথি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো ভূঁইফোড় সংগঠন নয়। জামায়াতে ইসলামী একটি নৈতিক সংগঠন; যারা এ দেশের মানুষের উন্নতি ও নৈতিকভাবে গড়ার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে আমাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, জামায়াতে ইসলামী দেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রক্ষাসহ ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তাদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে কখনোই পিছপা হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে আবারো এস আলমসহ তাদের প্রেতাত্মাদের ফিরিয়ে আনার সকল ষড়যন্ত্র বানচাল করে দেয়া হবে।’
তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে, তাই আপনারা সবসময় জামায়াতে ইসলামীকে আপনাদের পাশেই পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনো বৈষম্যের রাজনীতি করে না। জামায়াতে ইসলামী ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জন্য দেয়া রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলের টাকা সংশ্লিষ্ট দরিদ্র অসহায় মানুষের মধ্যে সঠিক ও ইনসাফভিত্তিক বিতরণ করলেও সরকার দলের সংসদ সদস্যরা তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন—এটি কিন্তু জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। যারা গরিবের জন্য দেয়া সামান্য দশ লাখ টাকার লোভ সামলাতে পারেন না, তাদের হাতে দেশ, দেশের জনগণ ও অর্থনৈতিক অবস্থা কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই সরকারের চোখের সামনে বিগত পতিত ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের দোসররা নানাভাবে মিছিল-মিটিং করলেও এ বিষয় নিয়ে তাদের কোনো রকম দৃষ্টি নাই। এতে বোঝাই যাচ্ছে এই সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সুতরাং যারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় নতুন করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, তাদেরকে এই বাংলাদেশের মানুষ চিনে রাখছে। সময় হলে এর সমুচিত জবাব দেবে বাংলাদেশের জনগণ।
সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘শেরপুরে আর চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম রাখতে দেয়া হবে না।’
এমপি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কোনো দলের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি না, আমরা বিদ্বেষ পোষণ করি সকল প্রকার অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। এই সরকার বলছে কোনোরকম তেল সঙ্কট নেই, অথচ তেলের দাম বৃদ্ধি করে জাতির সাথে তামাশা শুরু করেছে। শুধু তেলের দাম নয়, আজ নিত্যপণ্যসহ সকল পণ্যের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে জনগণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।’
মোটরসাইকেলের উপর ট্যাক্স আরোপের সিদ্ধান্তে সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যাদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করার কথা, তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করছেন না। পাচার হয়ে যাওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে আনছেন না। অথচ খেটে খাওয়া মানুষের উপর ট্যাক্স আরোপ করতে চাইছেন; সত্যিই এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুর্ভাগ্য। বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু এত বোকা নয়, এ ধরনের উৎকট, উদ্ভট চিন্তা-চেতনা কখনোই জনগণ মেনে নেবে না। আপনারা ঋণখেলাপিকে দিয়েছেন ব্যাংকের দায়িত্ব, ঋণখেলাপিকে বানিয়েছেন মন্ত্রী আর ঋণখেলাপিকেই দিচ্ছেন লাখ লাখ হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ। এভাবে একটা দেশ কখনোই উন্নয়ন, শান্তি আর গণতন্ত্রের পথে এগোতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা একদিকে প্রফেসর ইউনূসের সমালোচনা করছেন, আবার তার ভালো কাজকে পছন্দ করছেন—এই দ্বিচারিতা জনগণ কিন্তু ভালো চোখে দেখছে না। এই দ্বিচারিতা থেকে সরে না আসলে বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু আপনাদেরকে সরিয়ে দেবে।’
আমরা দৃঢ়তার সাথে বলছি, যারা এই বাংলাদেশে অন্যায়, অশ্লীলতা ও ন্যায়বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তাদেরকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হবে; যেমন করে শেখ হাসিনা ও তার সঙ্গী-সাথীদেরকে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সমন্বয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে জনগণের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কোনো চক্রান্ত আমরা বাস্তবায়ন হতে দেব না, ইনশাআল্লাহ।’



