ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী ঝিঞ্জিরপাড়া এলাকায় ব্রিজের দুই পাশে বাড়ি নির্মাণ করে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, এতে প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাঁচ গ্রামের কৃষক। পাশাপাশি তিনটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঝিঞ্জিরপাড়া এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, কৃষক ও স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় আব্দুল মজিদ ও তার ছেলে আজিজুর রহমান ব্রিজের দুই পাশে বাড়ি নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে এবং কৃষকরা চাষাবাদে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া আশিকুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালের বন্যার পর এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে মানুষ এলাকায় ফিরে এসে যে যার মতো ব্রিজসংলগ্ন স্থানে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। এর ফলে আগে যেখানে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদিত হতো, এখন সেখানে ঠিকমতো আবাদ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, সরকার প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করেছিল। পরে ব্রিজের দুই পাশে প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসী বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলী বলেন, ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মজিদ ও তার ছেলে আজিজুর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি জায়গা বা পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক পথে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা স্থাপনা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



