পাটগ্রাম সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ

১০ নারী-পুরুষকে শূন্য রেখা থেকে ফেরত নিয়ে গেল বিএসএফ

ওই ১০ জন ভারতীয় অংশে সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে সারারাত খোলা আকাশের নিচে ঝড়-বৃষ্টিতে পড়েছিল। আর তার পাশেই বিএসএফ সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাদের পাহারায় নিয়োজিত ছিল।

আমিনুর রহমান বাবুল, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)

Location :

Patgram
শূন্যরেখায় অবস্থানকালে ওই ১০ ভারতীয় নাগরিক
শূন্যরেখায় অবস্থানকালে ওই ১০ ভারতীয় নাগরিক |সংগৃহীত

বাংলাদেশে পুশইন করতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় নিয়ে আসা ১০ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিজিবি ও এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থানের কারণে শনিবার (৬ জুন) ভোরে ওই ১০ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করার জন্য শূন্যরেখায় জড়ো করেন ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পানিশালা মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা। পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাবুল কামাত সীমান্তের ৮৪৬-এর ১/২ এস পিলারের কাছে তাদের জড়ো করা হয়। ওই গ্রুপে পুরুষের পাশাপাশি যুবতী নারী ও শিশুও ছিল।

বিষয়টি টের পেয়ে পয়ষট্রিবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফের ওই অপচেষ্টা রুখে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ১০ জন ভারতীয় অংশে সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে সারারাত খোলা আকাশের নিচে ঝড়-বৃষ্টিতে পড়েছিল। আর তার পাশেই বিএসএফ সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাদের পাহারায় নিয়োজিত ছিল। পরে বিজিবি ও এলাকাবাসীর শক্ত প্রতিরোধের কারণে শনিবার ভোরে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে।

এর আগে, শুক্রবার (৫ ‍জুন) দিনভর বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার নানা প্রচেষ্টা চালায়। কিন্ত বাংলাদেশীদের প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। বিএসএফের এই অপতৎপরতা রুখে দিতে শুক্রবার রাতভর বিজিবির পাশাপাশি এলাকাবাসীও লাঠি হাতে পাহারায় ছিল। অবশেষে বিজিবি ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হলো।

পয়ষট্রি বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, বিজিবি ও এলাকাবাসীর কঠোর প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ আজ শনিবার ভোরে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে।