সিলেটে সঙ্ঘটিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। সংস্থাটি বলছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সঙ্ঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে বাবুলের প্রেমের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে বাবুল মিয়া ওই বাসায় প্রবেশের পর গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেন বাবুল। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া এগিয়ে এলে বাবুল তাকে এবং পরে তার স্বামী এম এ সাত্তারকে হত্যা করেন।
পুলিশের দাবি, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাসার সামনের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে ঘটনাস্থলের পাশের একটি পরিত্যক্ত এলাকা অভিযান চালানো হয়।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকায় লোডশেডিং থাকায় ক্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। ফলে ঘটনাস্থলের আলামত, আটক ব্যক্তির বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে তদন্ত এগোচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া গেছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসায় পাওয়া একটি দলিলও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রেমের সম্পর্কের পাশাপাশি ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। বাবুল একাই জড়িত ছিলেন কি-না, বাসা থেকে কোনো সম্পদ খোয়া গেছে কি-না এবং বাসা থেকে পাওয়া দলিলের সাথে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি-না, এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ও সিটি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিএনপি ও জামায়াতের নেতারাও ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় একই বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— বাসার বাসিন্দা এম এ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)। তাহমিনা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের দিনমজুর আপ্তাব মিয়ার মেয়ে। গত কোরবানির ঈদের পর তিনি ওই বাসায় কাজে যোগ দেন।
জানা যায়, স্থানীয় একজন বাসার দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ দরজা খুলে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতদের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।



