পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

কলমাকান্দার পাহাড়ি নদী গণেশ্বরী, উব্দাখঅলী ও দুর্গাপুরের নিতাই নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে।

ফজলুল হক রোমান, নেত্রকোনা

Location :

Netrokona
গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রবল স্রোতের টানে ধসে গেছে
গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রবল স্রোতের টানে ধসে গেছে |নয়া দিগন্ত

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও সুসং দুর্গাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

কলমাকান্দার পাহাড়ি নদী গণেশ্বরী, উব্দাখঅলী ও দুর্গাপুরের নিতাই নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা যায়, কলমাকান্দার খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রবল স্রোতের টানে ধসে গেছে। ভেসে গেছে আসবাবপত্র ও নানা শিক্ষা উপকরণ। ঢলের পানির তোড়ে নলছাপড়া বাজার থেকে বালুচড়া পর্যন্ত সড়ক ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জনগণের চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

ঢলের পানির সাথে পাহাড়ি বালুকণাতে বিস্তীর্ণ ফসলী জমি ঢেকে পড়েছে। এছাড়া রোপা আমনের বীজতলাও বালুতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এমন অবস্থায় সাধারণ কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, গতকাল সোমবার ভোর থেকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে দুর্গাপুর উপজেলার খারনৈ, নাজিরপুর, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০-১১টি গ্রামে বানের পানি প্রবেশ করেছে।

কলমাকান্দার ভারপ্রপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামসুজ্জামান আসিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সর্বদা মনিটরিং করছি। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ‘উব্দখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আরো নতুন করে কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’