ভৈরবে ঋণের চাপে গৃহবধূর আত্মহত্যা

হনুফার ভাই জামাল মিয়া বলেন, রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে ভোরে বাড়ির বাইরে হাঁটতে যান। হঠাৎ সকালে বাড়িতে ঢুকে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

সজীব আহমেদ, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Bhairab
ভৈরব থানা
ভৈরব থানা |নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঋণের টাকা পরিশোধের চাপে হনুফা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ গামছা দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে।

রোববার সকালে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকায় আলীম উদ্দিন মিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার এসআই হাফিজুর রহমান।

গৃহবধূ হনুফা বেগম ভৈরব উত্তর পাড়া এলাকার রিকশা গ্যারেজ মেকার আক্রাম হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয়দের ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ হনুফা বেগম তিন সন্তানের জননী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে এক ছেলেকে বিভিন্ন এনজিও ও বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে টাকা এনে প্রবাসে পাঠান। ওই ছেলে সুবিধা করতে না পারায় আরেক ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে দালালকে টাকা দেয়। দালালচক্র ছেলেকে বিদেশ নিতে পারেনি। সেই টাকাও দালাল থেকে উদ্ধার করতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়ে। অপরদিকে বিভিন্ন এনজিওসহ পাওনাদারদের চাপে কোনো পথ না পেয়ে নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ বিষয়ে হনুফার ভাই জামাল মিয়া বলেন, রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে ভোরে বাড়ির বাইরে হাঁটতে যান। হঠাৎ সকালে বাড়িতে ঢুকে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

তিনি আরো বলেন, হনুফা বেগম বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ৭-৮ লাখ টাকা ধারদেনা করেন। সেই টাকা পরিশোধ করতে পাওনাদারদের চাপের কারণে মানুসিক চাপ থেকে আত্মহত্যা দর পথ বেছে নেয়। আমরা আমার বোনকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। বুঝিয়ে যেন চিন্তা না করে তবু সে সন্তান স্বামী রেখেই আত্মহত্যা করেছে।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঋণের চাপে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।