নোয়াখালীর চাটখিল থানার বহুল আলোচিত আতিকুর রহমান শিবলু (২৯) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। পরে তাকে চাটখিল থানায় সোপর্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন কুমার কুন্ড। এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার শাহপরান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার মো: রবিউল আলম চৌধুরীর ছেলে।
র্যাব-১১, নোয়াখালী ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া বারাহীনগর এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমানের (৫৬) ছেলে কাতারপ্রবাসী আতিকুর রহমান শিবলু ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে শিবলুর মোবাইল থেকে তার বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে আহত অবস্থায় হিটারলাইনের দোকানের পশ্চিমে রাস্তার উপর পড়ে আছে।
শিবলুর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ওই নম্বরে পাল্টা ফোন করলে ১ নম্বর আসামি বলেন, শিবলুকে নিয়ে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১ নম্বর আসামি আহত শিবলুকে টেনেহিঁচড়ে তার বাবার সামনে নিয়ে এসে দ্রুত পালিয়ে যান। রক্তাক্ত শিবলু চিৎকার করে জানান, আসামিরা তার বাম হাত ভেঙে ফেলেছে।
মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।
অবশেষে র্যাব-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলার অন্যতম আসামি শাহপরানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।



