সাভারে বিভিন্ন দাবিতে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সমাবেশ

‘মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষসহ সকলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোক ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর সরকার ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করে। অথচ মালিকরা সেই মজুরি বাস্তবায়ন করেন নাই।’

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সমাবেশ
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সমাবেশ |নয়া দিগন্ত

চামড়া শিল্পের ঐতিহ্যবাহী শ্রমিক সংগঠন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে ট্যানারি শ্রমিকদের সমাবশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিসিক চামড়া শিল্পনগরী সাভারের হেমায়েতপুরে ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় ইউনিয়নের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংশোধিত নিম্নতম মজুরির পূর্ণ বাস্তবায়ন, মালিকদের সাথে সম্পাদিত দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, মধ্যস্বত্ত্বভোগী বে-আইনি কন্ট্রাক্টরের কাজ বন্ধ করে মালিক কর্তৃক সরাসরি কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ দেয়া, পুরোনো ও দক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা, ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান ও শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা, শ্রম আইন ও অবিলম্বে সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক বলেন, ‘মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষসহ সকলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোক ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর সরকার ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করে। অথচ মালিকরা সেই মজুরি বাস্তবায়ন করেন নাই। পরে মালিকদের ইচ্ছায় শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক ওই মজুরি সংশোধন করার পর আমরা আশা করেছিলাম, মালিকরা মজুরি যথাসময় বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলতে হচ্ছে, সেই সংশোধিত মজুরি এখন পর্যন্ত পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘মালিকদের সাথে সম্পাদিত দ্বি-পক্ষীয় চুক্তিও তারা বাস্তবায়ন করেননি। পুরোনো ও দক্ষ শ্রমিকদেরকে ছাঁটাই করে সেখানে বে-আইনি কন্ট্রাক্টরের লোক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।’

সভাপতির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদেরকে সকল বে-আইনি কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করে নিম্নতম মজুরি ও দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব মালিক নিম্নতম মজুরি ও চুক্তি বাস্তবায়ন করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। এর জন্য ইউনিয়ন ও শ্রমিকরা দায়ী থাকবেন না।’

মালিকদের সতর্ক করে তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য চক্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না। ট্যানারি শ্রমিকরা অতীতের মতোই দলমত নির্বিশেষে এখনো ঐক্যবদ্ধ আছে।’

সভায় ইউনিয়নের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ট্যানারি কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।