বরিশালের বাবুগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচি। রহমতপুর থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সড়কজুড়ে পরিচ্ছন্নতার কর্মযজ্ঞ চলছে। কোথাও চলছে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, কোথাও লাগানো হচ্ছে নতুন গাছের চারা।
পরিবেশকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক করে তুলতে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পূবালী ব্যাংক পিএলসি, বাবুগঞ্জ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: মামুন খন্দকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আব্দুর রউফসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সবুজায়নের বার্তা
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব সবুজায়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ করলেই একটি এলাকা আধুনিক হয়ে ওঠে না; পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত সবুজায়ন এবং মানুষের পরিবেশ সচেতনতাই একটি জনপদকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলে।
তারা বলেন, একসময় ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হলেও গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দেশীয় গাছে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান
বক্তারা বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনির মতো কিছু প্রজাতির গাছ ব্যাপকভাবে রোপণের ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব গাছ স্থানীয় পাখি ও প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও সবসময় সহায়ক নয়।
তাই ভবিষ্যতের সবুজায়ন কর্মসূচিতে দেশীয়, ফলজ, বনজ ও পরিবেশবান্ধব উপকারী প্রজাতির গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরিচ্ছন্ন বাবুগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়
জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নয়। একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপদ গড়ে তুলতে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।



