প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর, প্রত্যাশায় উন্নয়ন ঘোষণার আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল কর্মকর্তা-১ মো: উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি সরকারি সফর। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জনসভায় যোগ দিতে বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারে যচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে চায়ের দেশ মৌলভীবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা বিএনপি ও স্থানীয় প্রশাসন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেলা শহর মৌলভীবাজার ও প্রাচীন পৌর শহর, চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে পৃথক জনসভায় ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন গত ১৭ বছর ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত মৌলভীবাজারের বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা থেকে মৌলভীবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু ও মিরপুর (বাহুবল)- শ্রীমঙ্গল- মৌলভীবাজার- কুলাউড়া- বড়লেখা- বিয়ানীবাজার (শেওলা) সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের সুষ্পষ্ট ঘোষণা আশা করছেন জেলাবাসী।

এছাড়া অবহেলিত চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ চাওয়া পাওয়ার আশা করছেন চা সংশ্লিষ্টরা।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিএনপির সকল আমলেই প্রভাবশালী মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জেলা মৌলভীবাজার।

বিএনপির সকল মেয়াদেই মন্ত্রী ছিলেন এম সাইফুর রহমান। ২০০১-এ বিএনপি আমলে এম সাইফুর রহমান ছাড়াও এই জেলার বড়লেখা-জুড়ী আসন থেকেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আ্যডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ আমলেও সৈয়দ মহসিন আলী এই এলাকা থেকে মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় মৌলভীবাজার জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী নেই। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর দিকে চেয়ে আছেন জেলার মানুষ।

ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সিলেটে পৌঁছে তিনি সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে যাবেন। এরপর দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

শ্রীমঙ্গলের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সদরে যাবেন এবং দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্টে

সিলেট বিভাগের শীর্ষ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সভা শেষে তিনি সিলেট হয়ে আকাশ পথে রাতেই ঢাকায় ফিরে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল কর্মকর্তা-১ মো: উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি সরকারি সফর। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট, রঙ করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। একইসাথে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতেও নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা আয়োজনের লক্ষ্যে প্যান্ডেল নির্মাণ ও অন্যান্য প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা শহরের বাসিন্দা হোসাইন আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত জেলা মৌলভীবাজার। শুধু সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জেলা হওয়ায় বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এ জেলায় কোনো উন্নয়ন করেনি। অথচ সিলেট বিভাগের অন্য তিন জেলায়ই একাধিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের হাত ধরেই মৌলভীবাজার উন্নয়নের মহাসড়কে উঠবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু ও মিরপুর (বাহুবল)-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-কুলাউড়া-বড়লেখা-বিয়ানবাজার (শেওলা) সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের সুষ্পষ্ট ঘোষণা চাই আমরা। আশা করি, মৌলভীবাজারবাসীকে হতাশ করবেন না প্রধানমন্ত্রী। শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো: নুরুল আলম সিদ্দীকী বলেন, শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন আমাদের জন্য নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে। আমরা আশা করছি, চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের উন্নয়নে তিনি যুগান্তকারী কোনো ঘোষণা দেবেন। তার আগমনকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মরহুম এম,সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান বলেন, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভার প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, মৌলভীবাজারের জন্য কিছু সুখবর আসতে পারে। মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ঘোষণা আসার প্রত্যাশা রয়েছে।

এদিকে, আগামী দিনে সম্প্রসারিত মন্ত্রীসভায় মৌলভীবাজার থেকে একজনকে মন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।