হবিগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বিএনপি নেতার বাধা!

এফআইআর নিতে আদালতের নির্দেশ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে আমেরিকা প্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়ি নির্মাণে বাধা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে।

সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
হবিগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বিএনপি নেতার বাধা!
হবিগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বিএনপি নেতার বাধা! |নয়া দিগন্ত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে আমেরিকা প্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়ি নির্মাণে বাধা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে।

গত ১৬ আগস্ট দিনদুপুরে কামালের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নির্মাণস্থলে গিয়ে ত্রাস সৃষ্টি, নির্মাণকাজ বন্ধের চাপ ও শ্রমিকদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসীর ছেলে সানি আলম শ্রাবণ (১৮)। ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বাড়ি নির্মাণ করতে হলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে—এমন দাবি করেন শামসুল ইসলাম কামাল। প্রবাসী শাহিনুর আলম ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নির্মাণকাজ শুরু করলে গত ১৬ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কামালের নেতৃত্বে কয়েকজন নির্মাণস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে চাপ দেন। এ সময় প্রবাসীর ছেলে ও নির্মাণশ্রমিকদের প্রাণনাশ এবং লাশ গুমের হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে নির্মাণসামগ্রী নষ্ট, দেয়ালের অংশবিশেষ ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে অভিযোগ করেন সানি আলম শ্রাবণ। মামলায় শামসুল ইসলাম কামালকে প্রধান আসামি করে আরো চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুতর ও আমলযোগ্য বিবেচনায় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারায় মাধবপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহেদুল আলম। আদেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে মামলা রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, আদালতের নির্দেশনাসহ অভিযোগপত্র পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এফআইআর রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, আসামিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বাদীপক্ষ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান আসামি শামসুল ইসলাম কামালসহ অন্য আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।