মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ শীঘ্রই শুরু : শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী

ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ইতিবাচক হওয়া উচিত। আমরা আশা করছি বাঁধ ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তারা সজাগ থাকবে।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
পরশুরাম অংশে বাঁধ পরিদর্শন করছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী
পরশুরাম অংশে বাঁধ পরিদর্শন করছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী |নয়া দিগন্ত

পানি সম্পদ মন্ত্রী মো: শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেছেন, ‘ফেনীতে ১৫৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী মাসের যে কোনো সময় এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জেলার পরশুরাম অংশে বাঁধ পরিদর্শন করার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন এবং সেচ প্রকল্প কাজ আমরা শুরু করব। প্রায় প্রতি বছর পাশ্ববর্তী দেশ দ্বারা বাঁধ খুলে দেয়া অথবা বাঁধ ভাঙার ফলে এ অঞ্চল প্লাবিত হয়। ২০২৪ সালে আমরা এ ধরনের বড় একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। তখন অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ অসহায় জীবন-যাপন করেছে। বিশেষ করে ওই সময়টাতে হাহাকার তৈরি হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুও হয়েছিল। এ পানি নামতে নামতে একদিকে ফেনী নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে ও অন্যদিকে কিছু অংশ নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে চলে যায়। যেহেতু দীর্ঘদিন প্লাবিত ছিল, ফলে এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে যে বাঁধগুলো ছিল, এগুলো খুব জরাজীর্ণ ছিল। আমরা এখন একটা সমন্বিত প্রকল্প হাতে নিয়েছি। প্রকল্পটা হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন এবং সেচ প্রকল্প। এটা মুহুরি-কহুয়া নদীর বাঁধ প্রকল্প। আমরা একনেকে এটা পাস করেছি। ১৫৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প এটি এবং এটি প্রথম পর্যায়ের ও অনেক বড় প্রকল্প। এটা দীর্ঘদিনের এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন ছিল, প্রত্যাশা ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী মাসের যে কোনো সময় আসবেন এবং এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন। এ এলাকার মানুষের সাথে উনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছেন। আমরা সবার আন্তরিকতা ও সহযোগীতায় কাজটা ২০২৬ এ শুরু করে ২০৩০ সালে শেষ করব।’

ভারত সম্পর্কে বলতে গিয়ে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ইতিবাচক হওয়া উচিত। আমরা আশা করছি বাঁধ ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তারা সজাগ থাকবে। তারা বাংলাদেশের সাথে একটি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনোভাবে আগ্রাসনের শিকার আমাদের দেশের মানুষ যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা আরো বেশি সজাগ থাকবো।’

মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এমপি বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন এবং সেচ প্রকল্প এটা ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আমরা নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এ কাজ আমরা করব। আমরা সে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

রেহানা আক্তার রানু এমপি বলেন, ‘এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এর উদ্বোধন করেন। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার প্রকল্পের কাজ শেষ না করে বার বার সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। প্রতিবছর বাঁধ ভেঙে মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ করতে যাচ্ছেন।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব ও মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল প্রমুখ।