জীবিকার তাগিদে এক বছর আগে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন আলমগীর। স্বপ্ন ছিল একটু ভালোভাবে বাঁচার। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, এক বছর পর স্ত্রী ও নবজাতক শিশুসন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন লাশ হয়ে।
ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একই পরিবারের তিনজনের লাশ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অ্যাম্বুলেন্সযোগে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্শা পলাশবাড়ী গ্রামে পৌঁছেছে।
নিহতরা হলেন আলমগীর, তার স্ত্রী নাজমা ও তাদের ছয় মাসের শিশুসন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে ঢাকায় যান আলমগীর। সেখানে তার স্ত্রী নাজমা একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর আলমগীর পান বিক্রি করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসারে একটু সুখের আশায় দু’জনেই কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে আলমগীর, তার স্ত্রী নাজমা ও নবজাতক শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রোববার বিকেলে তিনজনের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।



