চরফ্যাশনে ৫২ মেডিক্যাল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত ১৭ জন

আধুনিক মানের পূর্ণাঙ্গ ল্যাব ও প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে রোগীদের। এতে করে রুগীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়।

Location :

Bhola
১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
১০০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |নয়া দিগন্ত

চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল চরফ্যাশনে প্রায় সাত লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় চরফ্যাশন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫২ জন মেডিক্যাল অফিসার পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন।

প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রেডিওগ্রাফার ও বিভিন্ন পদে জনবল সঙ্কটসহ আধুনিক ল্যাব না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও নেই রেডিওগ্রাফার। রক্তের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সিবিসি করার প্রয়োজনীয় মেশিনও নেই।

আধুনিক মানের পূর্ণাঙ্গ ল্যাব ও প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে রোগীদের। এতে করে রুগীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়।

হাসপাতালটিতে ৫২ জন মেডিক্যাল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৭ জন। ১০ জন কনসালট্যান্টের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ২৮ জন। ১৬ জন সেকমো পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন। পাঁচজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিপরীতে রয়েছেন দু’জন। তিনজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের বিপরীতে কর্মরত আছেন দু’জন। এছাড়া তিনজন ফার্মাসিস্টের পদ থাকলেও বর্তমানে কোনো ফার্মাসিস্ট নেই। মেডিক্যাল অফিসারদের অনেকেই বিজি থাকেন প্রাইভেট চেম্বার নিয়ে। চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল সঙ্কটের কারণে বিপুলসংখ্যক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও রয়েছে সঙ্কট। শিশু, গাইনি ও হৃদরোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের জন্য ভোগান্তি আরো বেশি। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদেরও নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

চরফ্যাশন উপজেলায় চারটি থানা ও আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে ২১টি জেলার চেয়ে বৃহত্তম হওয়ার কারণে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে এসে যথাযথ চিকিৎসা সেবা না পেয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে ভীর জমাচ্ছে।

হৃদরোগে আক্রান্ত মো: রতন মিয়া বলেন ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত। হঠাৎ অসুস্থ হলে এই হাসপাতালে আসতে হয়। কিন্তু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় সপ্তাহে শুক্রবারে প্রাইভেট হাসপাতালে যে ডাক্তার আসেন, তার ওপরই নির্ভর করতে হয়। জরুরি সময়ে এভাবে চিকিৎসা পাওয়া খুবই কঠিন।’

ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালটিতে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ও একজন গাইনি চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন। চরফ্যাশন একটি বড় উপজেলা এবং পাশের উপজেলার লোকজনও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ এক্স-রে থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে করতে হয়। এতে রোগীদের বাড়তি টাকা খরচ হয়। হাসপাতালটির এ সঙ্কট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন পদে জনবল সঙ্কট রয়েছে। পাশাপাশি এক্স-রে সেবা চালু রাখতে রেডিওগ্রাফার এবং আধুনিক ল্যাব পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির দরকার। এসব সঙ্কট সমাধান হলে রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান আরো উন্নত হবে।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামোগত ভাবে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকায় এ জটিলতার সৃষ্ট হয়েছে।