ময়মনসিংহ সীমান্তে ‘পুশইন’ আতঙ্ক, রাত জেগে পাহারা

সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের ‘জনতার নজরদারি ব্যবস্থা’ গড়ে উঠেছে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
সীমান্তে রাত জেগে জনগণের পাহারা
সীমান্তে রাত জেগে জনগণের পাহারা |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তজুড়ে ‘পুশইন’ আতঙ্ক ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে সাধারণ মানুষ। গত দু‌দিন ধ‌রে লাঠিসোঁঠা হাতে রাতভর পাহারা দিচ্ছে স্থানীয়রা—যেন কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ না ঘটে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে তৈরি হয়েছে অঘোষিত প্রতিরক্ষা বলয়। স্থানীয়দের দাবি, ‘একজন ভারতীয় নাগরিককেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না’—এমন কঠোর অবস্থান নিয়েই দিন-রাত পালা করে পাহারা দিচ্ছেন তারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের ‘জনতার নজরদারি ব্যবস্থা’ গড়ে উঠেছে।

এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করতে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) মোতায়েন করা হয়েছে। শিগগিরই আনসার সদস্যরাও সীমান্তে যুক্ত হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

গত বুধবার ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় সীমান্তে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটা শুধু বিজিবির একার দায়িত্ব নয়। সীমান্ত রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দল ও সংগঠন—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ জানান, ‘সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আরো গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘পুশইন’ ইস্যু ইতোমধ্যেই জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।