প্রকৃতির এক অদ্ভুত ঘটনার সাথে মানুষের বিশ্বাস-অবিশ্বাস মিশে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তৈরি হয়েছিল কৌতূহল, আলোচনা ও কুসংস্কারের এক বিচিত্র অধ্যায়।
ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়া একটি কড়ই গাছের কাণ্ড কয়েকদিন পর হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়াকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন। একপর্যায়ে সেখানে মানত, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানোর ঘটনাও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত গাছটি কেটে ফেলেছে প্রশাসন।
ঘটনাটি আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ি এলাকায়। প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে একটি বড় কড়ই গাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়ে যায়। পরে গাছটির ডালপালা কেটে ফেলা হলে প্রায় ১৫ ফুট দীর্ঘ কাণ্ডটি মাটিতে পড়ে ছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর স্থানীয়রা বিস্ময়ের সাথে দেখতে পান, কাণ্ডটি আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে শুরু করেন। কেউ এটিকে প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও অনেকে এর মধ্যে অলৌকিকতার ছাপ খুঁজতে থাকেন। ধীরে ধীরে গাছের গোড়ায় লাল কাপড় বাঁধা, মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানো এবং মানত করার মতো কর্মকাণ্ড শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানটি একটি অনানুষ্ঠানিক ‘মাজারে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এ অবস্থায় শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করে স্থানীয় প্রশাসন।
আখাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। মালিকের সম্মতি নিয়েই সেটি অপসারণ করা হয়েছে। গাছ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা একটি মসজিদ বা মাদরাসায় দান করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতির অস্বাভাবিক বা বিরল কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটিকে অলৌকিক বলে ধরে নেয়ার প্রবণতা সমাজে এখনো রয়েছে। অথচ উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু গাছ উপড়ে পড়ার পরও শিকড়ের একটি অংশ মাটির সাথে সংযুক্ত থাকলে বা কাণ্ডের ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে আংশিকভাবে আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন ছিল। তাই জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ঘটনাটি আবারো মনে করিয়ে দিল— প্রকৃতির বিস্ময়কর ঘটনা কৌতূহলের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু সেই কৌতূহল যেন অন্ধ বিশ্বাসে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকাও সমান জরুরি।



