লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ১২

শনিবার (৬ জুন) গ্রেফতার ব্যক্তিদের লালমনিরহাটের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Location :

Lalmonirhat

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর লালমনিরহাট জেলা জুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) গ্রেফতার ব্যক্তিদের লালমনিরহাটের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মিছিলের ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে জেলার পাঁচটি থানা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সদর থানার পুলিশ ও ডিবির অভিযানে কালীবাড়ির লতিফুর রহমান, খোর্দ সাপটানার সিফাত ও সাবেক সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাপটিবাড়ি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: মোতালেব খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ভোটমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আশরাফুল হক, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজিজার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো: এরশাদুল হক, উত্তর ৩২ হাজারী এলাকার আনোয়ার ও উত্তর দলগ্রামের রিপন চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করে।

হাতিবান্ধা থানার পুলিশ ফকিরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আদনান শুভ এবং আদিতমারী থানার পুলিশ ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওয়াডেবা গ্রামের নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

পাটগ্রাম থানার পুলিশ রসুলগঞ্জের ছাত্রলীগ কর্মী শাহরিয়ার শামীম ও বুড়িমারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি তুহিনুজ্জামান বাবুকে গ্রেফতার করে।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা জানান, জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের কঠোর অবস্থান বজায় আছে। ছাত্রলীগের প্রকাশ্য মিছিলের পর জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাঁচটি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।