সিলেট নগরীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নবম শ্রেণির ছাত্র মো: রিফাত আহমদ (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি জুয়েল আহমদকে (১৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শনিবার (২২ আগস্ট) এর সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ। শুক্রবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার জুয়েল সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার হাদারপাড় গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে।
র্যাব সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই দক্ষিণ সুরমার এরিনা ফুটসাল ইনডোর মাঠে রিফাতের বন্ধু রাফি ও শুয়েব আহমদের দলের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালে ফাউল করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাফি তার দল নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাইলে প্রতিপক্ষের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের হুমকি দিয়ে বাধা দেয়।
পরিস্থিতি বুঝে রাফি তার বন্ধু রিফাতকে ফোন করে সাহায্য চায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রিফাত নগরীর কাজিরবাজার সেলফি ব্রিজে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় রিফাত গুরুতর জখম হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সাব্বির আহমদ, আব্দুস সামি ও রবিউল নামে আরো তিন যুবক আহত হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় রিফাতের মা ৩০ জুলাই সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা পর র্যাব-৯ হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে র্যাব-৯ সদর কোম্পানি (সিলেট) ও সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)-এর যৌথ দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের আহম্মদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি জুয়েল আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৯-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলায় রিফাত হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার জুয়েলের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



