মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে রূপসী আক্তার নামে এক কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মো: আল জিহাদ (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে জামালপুরের মেলান্দহ-ইসলামপুর সীমান্তবর্তী হারগিলা বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্নেহাশিস রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে আসামিকে আদালতে নেয়া হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
গ্রেফতার আল জিহাদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকার আল মামুন আহমেদের ছেলে।
থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে কিশোরী রূপসীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যায় আল জিহাদ। পরে তাকে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় শাকিলের সেচপাম্পের পাশে থাকা পরিত্যক্ত টিনশেড পাম্প হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রেমের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আল জিহাদ কিশোরী রূপসীর গলায় তার পরনের ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পরদিন শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মো: মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাম্প হাউজের ভেতর থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার কিশোরীর বাবা মো: ছায়ের উদ্দিন অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মো: মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ওসি স্নেহাশিস রায়ের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) হাসিব আল মাহফুজ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম চালান। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আল জিহাদকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং কিশোরী রূপসী আক্তারকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
কিশোরীর বাবা ছায়ের উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, ঘটনার পর থেকেই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন কৌশলে কাজ করে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আল জিহাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে সে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি-না এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, জামালপুর জেলা পুলিশ অপরাধের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।



