জেলেদের স্বার্থ সুরক্ষায় নৌযান শুমারি : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নৌপরিবহন খাতকে আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

Location :

Patuakhali
জেলেদের স্বার্থ সুরক্ষায় নৌযান শুমারি : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
জেলেদের স্বার্থ সুরক্ষায় নৌযান শুমারি : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী |নয়া দিগন্ত

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নৌপরিবহন খাতকে আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’। গত ২০ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী এ শুমারির কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত।

নৌপরিবহন অধিদফতরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ শুমারির কার্যক্রম পরিদর্শন এবং এর সুফল সম্পর্কে অবহিতকরণ উপলক্ষে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টায় পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌযান শুমারিতে দেশের সব নৌযানের সঠিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুমারিতে অন্তর্ভুক্ত হলে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলেরা ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন। একই সাথে বিদেশী সহযোগিতা গ্রহণেও এ তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তিনি স্থানীয় জেলে, নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের শুমারি কার্যক্রমে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের একটি নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র পাওয়া যাবে। এর ফলে নৌযানের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরো কার্যকর করা, নৌনিরাপত্তা জোরদার, নৌপথ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সহজে পাওয়া যাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শুমারিতে নৌযানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকলে মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি নৌযানের মালিকানা দাবি, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা এবং সরকারের বিভিন্ন পাওনা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে এ তথ্য সহায়ক হবে। শুমারির তথ্যের ভিত্তিতে নিজ নামে নৌযান নিবন্ধনের সুযোগও সহজ হবে। নৌযানের রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জেলেদের জন্য একটি লাইটহাউস স্থাপন, নদীপথে নৌযানের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং আর্টিসানাল ট্রলিং বোট বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি জেলেদের অবকাশকালীন সরকারি বরাদ্দের প্রণোদনা যাতে যথাসময়ে তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জেলেদের সাথে একটি ফিশিং বোটে উঠে নৌযান শুমারিতে অন্তর্ভুক্তির সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জেলেদের সাথে দুপুরের খাবারও গ্রহণ করেন। খাবার শেষে খাপছাড়াভাঙ্গা নদীর মোহনা, আন্ধারমানিক নদী ও সাগরের মোহনা পরিদর্শন করে নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জেলেদের নির্বিঘ্নে ঘাটে ফিরে আসার ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম লক্ষ। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভা ও পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর মো: শফিউল বারী, পায়রা বন্দরের মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ার) কমডোর, নৌপরিবহন অধিদফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার সাইফুল আহমাদ, বরিশাল অঞ্চলের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মো: সিরাজুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর স্থানীয় প্রকৌশলী কর্মকর্তাসহ নৌপরিবহন অধিদফতর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলে প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন অধিদফতর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক লিস্টিং অপারেশনে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত এ শুমারিতে দেশের নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ডাটাবেইজ নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি মেরিটাইম সেক্টরে হয়রানি কমানো, মামলা হ্রাস এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার মানোন্নয়নেও এ ডাটাবেইজ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।