লালমনিরহাটে ৩ কিলোমিটার গ্রামীণ কাচা রাস্তার বেহাল দশা

প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশায় জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য হাটে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
গর্ত, খানা-খন্দ আর ধসে বেহাল অবস্থা সড়কের
গর্ত, খানা-খন্দ আর ধসে বেহাল অবস্থা সড়কের |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের প্রধান সংযোগ সড়কটির (কাচা রাস্তা) প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ ভেঙে গেছে। টেকসই সংস্কার ও গাইডওয়ালের অভাবে পাঁচ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের প্রধান সংযোগ কাচা রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ধরলা নদীর পূর্ব পাশের বেরিবাঁধ সংলগ্ন বোয়ালমারী মসজিদ থেকে খারুয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই রাস্তা গর্ত ও খানা-খন্দে ভরে গেছে। এতে খারুয়াসহ আশপাশের অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

চলতি বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ এখন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পাশের নিচু জমিতে পড়ে গেছে। তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক খাদ। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচল একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশায় জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য হাটে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙন ও মাটি ধস রোধে জরুরি ভিত্তিতে গাইডওয়াল নির্মাণপূর্বক সড়কটি টেকসইভাবে পাকাকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

তাদের মতে, কাচা রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার করা গেলে হাজার হাজার মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও সার্বিক অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: মোশারফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগেও এই কাচা রাস্তায় কাজ হয়েছিল, কিন্তু তা ছিল নামে মাত্র। যেখানে ধস ছিল, সেখানে সামান্য মাটি ফেলে দায় সারা হয়। বালুমাটির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার দুই পাশ ধসে জমিতে পড়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় রাস্তাটি ভেঙে গেলে আমরা এলাকাবাসী নিজেরা চাঁদা তুলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচে তিন কিলোমিটার সড়ক মেরামত করেছিলাম। কিন্তু স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষায় আমাদের এই একই পরিণতি ভোগ করতে হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটিতে বালুমাটির পরিমাণ বেশি থাকায় বর্ষাকালে তা সহজেই ধসে যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের অপ্রতুল বরাদ্দ দিয়ে এই রাস্তার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাস্তাটির দুই পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে এটি দ্রুত পাকাকরণ করা গেলে জনভোগান্তি চিরতরে অবসান হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল নির্মাণসহ রাস্তাটি পাকাকরণের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হবে।