খাগড়াছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে তিনমাস ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করেছে জেলা পরিষদ। সাম্প্রতিক অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলায় কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।
ব্রিফিংয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাবের আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বন্যায় মানুষের বসতঘর, কৃষিজমি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকার উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারী অনেক পরিবারও চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকার ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণ আদায়কারী সব প্রতিষ্ঠানকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আগামী তিন মাসের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়া। কোনো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দুর্যোগকালীন ঋণ প্রদানের আহ্বান জানান।



