মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

‘ভর্তি হওয়ার দুই ঘণ্টা ধরে ডাক্তার আর নার্সদের কাছে বার বার গেছি। কিন্তু ধমক দিয়া আমারে বলে, যাও আইতাছি। এভাবে চার-পাঁচবার গেছি, কিন্তু কেউ এসে আমার মাকে দেখছে না (দেখে নাই)।’

Location :

Madan Upazilla
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেত্রকোনা
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেত্রকোনা |নয়া দিগন্ত

মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে দিলোয়ারা (৭০) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত দিলোয়ারা উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম কাসুম আলীর স্ত্রী।

রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দিলোয়ারা আক্তার গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসার জন্য তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। পরে রোগী ভর্তি করে তৃতীয় তলার ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি হয়। দিলোয়ারার ছেলেসহ অন্য স্বজনরা বার বার দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের কাছে যান। কিন্তু আসতেছি বলে দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো ডাক্তার বা নার্স রোগীর চিকিৎসা দেননি। পরে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তাড়াহুড়ো করে চিকিৎসক ও নার্সরা স্যালাইন ও ওষুধ নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে দিলোয়ারা আক্তারের ছেলে রনি মিয়া বলেন, ‘ভর্তি হওয়ার দুই ঘণ্টা ধরে ডাক্তার আর নার্সদের কাছে বার বার গেছি। কিন্তু ধমক দিয়া আমারে বলে, যাও আইতাছি। এভাবে চার-পাঁচবার গেছি, কিন্তু কেউ এসে আমার মাকে দেখছে না (দেখে নাই)। মারা যাওয়ার পর ডাক্তার আর নার্স আইছে স্যালাইন লাগাইতো। তারা চিকিৎসা না দিয়া আমার মাকে মাইরা ফালাইছে। আমি এর বিচার চাই।’

দিলোয়ারা আক্তারের পাশের সিটে ভর্তি থাকা রোগী মাহিন মিয়া জানান, ‘আমার পাশের সিটে রোগীটা ভর্তি হওয়ার পর স্বজনরা বার বার বাইরে গেছে ডাক্তার আর নার্স আনতে। কিন্তু ডাক্তার বা নার্সরা কী বলেছে সেটা তো জানি না। তবে রোগী মারা যাওয়ার পর ডাক্তার আসছে।’

এ ব্যাপারে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার নাসরিন সুলতানা প্রীতি বলেন, ‘রোগী যখন ভর্তি করেছে তখন চিকিৎসাপত্রে ওষুধ লিখে ভর্তি দিয়েছি। পরে যখন স্বজনরা আসছে তখন গিয়ে দেখি রোগী মারা গেছে।’

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নূরুল হুদা খান জানান, ‘উল্লেখিত সময়ে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখছি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানালে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন গোলাম মওলা মোবাইলফোনে বলেন, ‘মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিলোয়ারা নামে একজন রোগী মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। চিকিৎসায় যদি কোনো ধরনের অবহেলা থাকে তাহলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’