রাশিয়া থেকে পাটগ্রামের ৪ যুবককে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

জামায়াতে ইসলামীর প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এ ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই জড়িত নয়। আর কেউ যদি জড়িত থাকে সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় দল গ্রহণ করবে না।

আমিনুর রহমান বাবুল, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)

Location :

Patgram
রাশিয়া থেকে পাটগ্রামের ৪ যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে স্বজনদের অবস্থান কর্মসূচি
রাশিয়া থেকে পাটগ্রামের ৪ যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে স্বজনদের অবস্থান কর্মসূচি |নয়া দিগন্ত

রাশিয়া থেকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার চার যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্বজনরা।

সোমবার (১ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে ওই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

স্বজনদের দাবি, যেকোনো মূল্যে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়া চার যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর আগে ওই পরিবারগুলোর স্বজনরা একই দাবিতে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও শহরের চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন করেছেন। এভাবে তারা একের পর এক কর্মসূচি পালন করছেন।

ওই চার যুবক হলেন— টেপুরগাড়ি এলাকার দেলদার রহমানের ছেলে নাজমুল হক সৌরভ, একই এলাকার রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান, সর্দারপাড়া এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে আল আামিন ও একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের মরহুম আব্দুস সাত্তারের ছেলে ইউনুস আলী (৩৮) ও মাহিন ইসলাম রাশিয়ায় উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরি দেয়ার নাম করে ওই চার যুবককে রাশিয়া পাঠায়। প্রথমে তারা প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৯ লাখ করে টাকা নেন। এরপর ওই যুবকদের তারা ঢাকায় নিয়ে যান।

পরে তাদের ৮ মে বাহরাইন হয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় নেয়া হয়। যেদিন তারা মস্কোয় পৌঁছায় সেদিন ওই যুবকরা পরিবারগুলোর সাথে যোগাযোগ করে। কিন্ত এরপর থেকে ওই যুবকদের সাথে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এক পণ্য সরবরাহকারীর মোবাইলফোনের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে নিজেদের জীবনের ঝুঁকির কথা জানান ওই চার যুবক।

এদিকে এ ঘটনায় ইউনুস আলীসহ কয়েকজনকে আসামি করে পরিবারের পক্ষ থেকে পাটগ্রাম থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী মেহেদীর ফুফু রুপালী, নাজমুলের বোন সেলিনা, তার বড় বোন শারমীন, আল আমিনের বোন আশামনি, মেহেদীর মা সুলতানা পারভীন, আল আমিনের মা আলেয়া খাতুন, আল আমিনের ভাই সফিকুল ইসলাম, মেহেদীর চাচি ফরিদা বেগম, পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল প্রমুখ।

ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলো যখন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনরা যেকোনো মূল্যে তাদের সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এদিকে এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাটগ্রাম উপজেলা সেক্রেটারি মনোয়ার হোসেন লিটন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ইউনুসকে উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ও মাহিন ইসলামকে পৌর কমিটির পদ থেকে ১৮ মে দলের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে একটি মহল স্থানীয় জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সম্প্রতি রাশিয়ায় গমনকারী পাটগ্রাম উপজেলার চার যুবকের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পাটগ্রাম উপজেলা শাখার দায়িত্বশীলদের জড়িয়ে যে প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

তিনি দাবি করে বলেন, পাটগ্রাম উপজেলার কালিরহাট এলাকার চার যুবক বৈধ পাসপোর্ট ও সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে ভিসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে ৭ মে রাশিয়ায় যায়। বাংলাদেশী অ্যাজেন্সি রাশিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে বৈধ পথে তাদের রাশিয়ায় পাঠায়। কিন্ত রাশিয়ান চাকরিদাতা কোম্পানি চুক্তি মোতাবেক যুবকদের কাজ না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ওই চার যুবকসহ মোট ৩০ বাংলাদেশীকে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা যায়। বর্তমানে তারা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাটগ্রাম উপজেলা শাখা এমন জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একইসাথে এ ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

কিন্ত একটি মহল এই ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অহেতুক স্থানীয় জামায়াতের দায়িত্বশীলদের তারা বিষোদগার করে যাচ্ছেন। যার নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলকে অসত্য তথ্য উপস্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই জড়িত নয়। আর কেউ যদি জড়িত থাকে সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় দল গ্রহণ করবে না। একটি দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী রুশ দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তাব্যক্তিদের সাথে এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং বিপদগ্রস্থ বাংলাদেশীদের ফেরত আনার সকল প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাটগ্রাম উপজেলা শাখা বাংলাদেশে অবস্থিত রুশ দূতাবাস, রাশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে যাথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্থানীয় ওই চার যুবকসহ উল্লেখিত ৩০ বাংলাদেশীকে অতি দ্রুত দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছে।