প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফ্যামিলি কার্ড নেবেন ভিকারিনি জখাতুন বিবি

৯ বছর আগে স্বামী আরজান মিয়া মারা গেলে নিঃসন্তান জখাতুনের ঠাঁই হয় ভাইয়ের সংসারের এক কোণে। ভাইয়ের অনটনের সংসারে নিজে হয়েছেন বোঝা, তাই বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি।

আব্দুল আজিজ, মৌলভীবাজার

Location :

Maulvibazar
জখাতুন বিবি
জখাতুন বিবি |নয়া দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারে আসছেন বুধবার (১৭ জুন)। এদিন তিনি বিতরণ করবেন তৃতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড। আর তার হাত থেকে কার্ড নেবেন ভিখারিনি জখাতুন বিবি। এমনটাই জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১ নম্বর মীর্জাপুর সুইলপুর গ্রামের ভিখারিনী জখাতুন বিবি (৫৫)। ৯ বছর আগে স্বামী আরজান মিয়া মারা গেলে নিঃসন্তান জখাতুনের ঠাঁই হয় ভাইয়ের সংসারের এক কোণে। ভাইয়ের অনটনের সংসারে নিজে হয়েছেন বোঝা, তাই বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি। হতদরিদ্র এই জীবন সংগ্রামী নারী এবার পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড। কার্ড বিতরণে ১৭ জুন মৌলভীবাজার শহর ও শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মৌলভীবাজারে জখাতুনের মতো ওই এলাকার আরো আছেন অসহায়, অস্বচ্ছল পরিবারের ইমান উদ্দিনের মেয়ে জখই বিবি (৫৪) ও মালা বেগম। মৌলভীবাজারের রাজনগর ও শ্রীমঙ্গলের ৩০৭ জন এবার পাচ্ছেন তৃতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড। এই কার্ডের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিছুটা সচ্ছলতা পাবেন বলে প্রত্যাশা উপকারভোগী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।

বুধবার আকাশপথে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে তারেক রহমান দুপুর ১টায় যাবেন শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের নারীদের হাতে তুলে দিবেন ফ্যামিলি কার্ড। এদিকে, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২ জনকে দেবেন এই কার্ড।

উপকারভোগী জখাতুন বলেন, ‘আমি অসহায়, ভিক্ষা করে জীবন চালাই। সরকারের এই সহায়তা আমার অনেক কাজে আসবে। ভাইয়ের ভিটায় ঠাঁই হলেও সেও দিনমজুর। তার টানাটানির সংসার। আমাকে সাহায্য করতে পারে না।’

ভাই রাজা মিয়া বলেন, ‘আমার বোন নিঃসন্তান। তাকে বিয়ে দেওয়ার পর স্বামী মারা যান। এর পর আমার আশ্রয়ে রয়েছে। আমি এক দিনমজুর, আমার সংসার চালানো কঠিন। আমার বোন উপায় না দেখে ভিক্ষাভিত্তিতে নেমেছে। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ায় হয়তো তার কষ্ট দূর হবে।’

শ্রীমঙ্গল মীর্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: আরমান আলী বলেন, ‘আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নাম দিয়েছি। আমার ওয়ার্ডে অনেক অসহায় লোকজন রয়েছেন। জখাতুন বড় অসহায়। তার একটা ঘরের বড় প্রয়োজন।’

কথা হলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: সুয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এই সহায়তায় সমাজের অসহায় হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সুবিধা পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে নেয়া হচ্ছে সব ধরনের প্রস্তুতি। মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ দলের নেতারা। আর সামগ্রিক কাজের তদারকি করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমরা জখাতুন বিবিকে মঞ্চে আনবো। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তার ফ‍্যামিলি কার্ড গ্রহণ করবেন।’

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘পর্যটন ও চা শিল্পের সম্ভাবনাময় এ জেলার সকল সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তাই প্রধানমন্ত্রী আসার খবরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা দাবি উঠছে। মৌলভীবাজারে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, রাজনগরকে পৌরসভা ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিবেন প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।’