জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তার ও যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫ জন।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শনিবার রাতে কাওয়ামারা এলাকায় পিংনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সরকারের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইউনিয়ন বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ, সদস্য চান মিয়া, ডা. মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিস ও বাবুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পিংনা ইউনিয়নের যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অননুমোদিত ব্যবসা করে আসছিল।
সম্প্রতি বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সরকার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
শনিবার রাতে বালু উত্তোলনের একটি বাল্কহেড এক পক্ষ পুড়িয়ে দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে সুভাষ সরকারের গ্রুপ প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় উভয় পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নেয়। এতে ১৫ জন আহত হয়।
এ ব্যাপারে সুভাষ সরকার অভিযোগ করেন, ‘বাল্কহেড মেশিনের মালিকের কাছে আব্দুর রশিদের লোকজন চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না পাওয়ায় বাল্কহেড পুড়িয়ে দেয়, লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারধর করে।’
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কোনো গ্রুপ নেই, বালুর ব্যবসাও নেই। বিএনপি করি এটাই আমার পরিচয়।’
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’



