কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপারের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

‘মাদক বিক্রেতা নয়, গডফাদারদের নির্মূলে কাজ করব’

কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কুষ্টিয়ার মাদক বিক্রেতা নয়, মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে জেলায় মাদক নির্মূল করা হবে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

Location :

Kushtia Sadar
কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপারের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপারের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় |নয়া দিগন্ত

কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কুষ্টিয়ার মাদক বিক্রেতা নয়, মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে জেলায় মাদক নির্মূল করা হবে।

থানাকে দালালমুক্ত করা হবে এবং মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে থানাকে নেতাদের প্রভাবমুক্ত করা হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা একা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, জেলাবাসীকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করলে আমি দায়িত্ব পালনকালীন জেলাবাসীকে একটি সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে চাই।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, থানায় মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে কারোর তদবির ও সুপারিশ আমার নিকট গণ্য হবে না। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনের গতি প্রবাহিত হবে। আমি এ ব্যাপারে আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আপনারা আমার সাথে থাকুন এবং আমাকে সহযোগিতা করুন।

পুলিশ সুপার বলেন, থানায় পুলিশি হয়রানি ও মামলা নিতে গড়িমসি হলে বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ সদস্যদের নিয়মের মধ্যে থেকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে। পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতিমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, থানাকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। থানায় হয়রানি ও ভয়ভীতির কোনো স্থান নেই।

তিনি আরো বলেন, কুষ্টিয়া থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া আছে। বিনোদনের নামে নদীতে নৌকা নিয়ে কোনো অসামাজিক কাজ ও বেলেল্লাপনা বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যে গত শনিবার থেকে কুষ্টিয়ার নদীতে সব ধরনের সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করা হয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী মানুষেরা যেমন খুশি, তেমনিভাবে ঘুরতে আসা সব বয়সের মানুষেরা দারুণ খুশি। শহরের পার্কগুলোর পরিবেশ ঠিক রাখা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে আড্ডা একেবারেই বন্ধ থাকবে। কেউ আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, পুলিশ সদস্যদের কর্মকাণ্ডে নজরদারি বাড়াতে ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হবে। দায়িত্বহীনতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীকে বিভাগীয় কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, দুই-একজন পুলিশের বদনামের ভার অন্যরা কেন নেবে? এআই সিস্টেম চালু করতে চাই। থানাকে শতভাগ দালালমুক্ত করতে চাই। আর কিশোর গ্যাং ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।