কুলিয়ারচরে জাহাঙ্গীর হত্যা, ১ বছর পর রহস্য উদঘাটন

২০২৫ সালের ২ জুলাই বিকেলে কুলিয়ারচরের বড়খারচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন জাহাঙ্গীর মিয়া। পরদিন ৩ জুলাই ওই এলাকার একটি উঁচু ঘাসের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

Location :

Kishoreganj
নিহত জাহাঙ্গীর মিয়া
নিহত জাহাঙ্গীর মিয়া |নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জাহাঙ্গীর মিয়া (৪২) হত্যার রহস্য এক বছর পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্তের পর এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

গ্রেফতাররা হলেন— হুসনা খাতুন (৪৫) ও তার স্বামী শহীদ মিয়া (৪৮)।

পিবিআই জানায়, ২০২৫ সালের ২ জুলাই বিকেলে কুলিয়ারচরের বড়খারচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন জাহাঙ্গীর মিয়া। পরদিন ৩ জুলাই ওই এলাকার একটি উঁচু ঘাসের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ জুলাই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়।

থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে তদন্তে ব্যর্থ হলে পরে মামলাটি পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

তদন্তে উঠে আসে, জাহাঙ্গীর মিয়ার সাথে হুসনা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে দাবি করেছে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন জাহাঙ্গীর মিয়া ও হুসনা খাতুন গরুর জন্য চাষ করা উঁচু নেপিয়ার ঘাসের জমিতে দেখা করতে যান। এ সময় হুসনা খাতুনের স্বামী শহীদ মিয়া সেখানে উপস্থিত হন এবং দু’জনকে একসাথে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ছুরি দিয়ে জাহাঙ্গীর মিয়াকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, গ্রেফতারদের আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।