সিলেটে মাজার ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩৮

শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যান। এ সময় মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও দোকান কোঠা নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সংঘর্ষের মুহূর্ত
সংঘর্ষের মুহূর্ত |নয়া দিগন্ত

সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও ৩৫-৪০টি দোকান কোঠা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সিলাম এলাকার চকবাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের কারণে চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যান। এ সময় মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও দোকান কোঠা নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও হামলা-পাল্টা হামলা হয়। এতে ওসি মো: মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ২৫-৩০ জনও আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন— মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদিসহ আরো অনেকে। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জানা গেছে, ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরো আগে। গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের এক আদেশে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি ও মো: ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়।

এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নম্বর ১০৭৬৭/২৬ দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়। বিচারপতি মো: হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো: তাজরুল হোসাইনের আদালত বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন।

তবে সাময়িকভাবে ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ:) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। যা শুক্রবার সংঘর্ষে রূপ নেয়।

শুক্রবার এর সত্যতা নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনিসহ আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং সাত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।